Logo
প্রিন্টের তারিখ: 04 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 5, 2026

সংবাদ শিরোনাম : বনানীতে ছাত্রদল নেতা পারভেজ হত্যা: সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

বনানীতে ছাত্রদল নেতা পারভেজ হত্যা: সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

​বনানীর প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ

​নিহত ২৪ বছর বয়সি জাহিদুল ইসলাম পারভেজ প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুয়েত প্রবাসী জসিম উদ্দিনের একমাত্র সন্তান।

​গত বছরের ১৯ এপ্রিল বিকেলে বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘাতে ইংরেজি বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান পারভেজ।

​হত্যাকাণ্ডের পরদিন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পারভেজকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী শাখার কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ওইদিনই নিহত পারভেজের মামাতো ভাই হুমায়ন কবীর বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানা ইউনিটের যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ মিয়াজি হৃদয় ও যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষারসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।

​পুলিশের অভিযোগপত্র ও পরিবারের অসন্তুষ্টি

​তদন্তের একপর্যায়ে দুই ছাত্রীর নামও মামলায় যুক্ত হয় এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

​অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৯ আসামি হলেন:

  • ​মেহেরাজ ইসলাম
  • ​আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস
  • ​মো. মাহাথির হাসান
  • ​মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল
  • ​আলভী হোসেন জুনায়েদ
  • ​আল আমিন সানি
  • ​ফাতেমা তাহসিন ঐশী
  • ​ফারিয়া হক টিনা
  • ​রাকিব

​এর মধ্যে পিয়াস, ঐশী ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সোবহান নিয়াজ তুষার ও মারুফ মিয়াজি হৃদয়সহ আটজনকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।

​তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মঈন উদ্দিন জানান, যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি এবং বাকি চারজনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

​তবে পুলিশের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। মামলার বাদী হুমায়ুন কবির বলেন, "পুলিশের এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আমরা অবগত নই। প্রকৃত খুনিদের অনেকেকেই অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্পষ্ট মনে হচ্ছে, পুলিশ আসামিদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। আমরা এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেব।"

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক এই সময়ের
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ দৈনিক এই সময়ের
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF